মঙ্গলকাব্যে তৎকালীন সমাজজীবন
মঙ্গল কাব্য মঙ্গলস,চক গান, ব্রতকথা ও লোককাহিনী যখন কাব্যাকারে লিখিত হল তখন তার সাধারণ পরিচয় হল মঙ্গলকাব্য । ঠিক কবে থেকে এই লিখিত রূপের আবির্ভাব ঘটেছিল তা জানা যায় না। পঞ্চদশ শতক থেকে তার সাক্ষাৎ মেলে। সতরাং আশা করা যেতে পারে, আরও দু-একশ বছর আগে থেকেই এর প্রস্তুতিপর্ব অথবা কৈশোর কাল দেখা দিয়েছিল। বিশেষ, তার্কী আক্রমণের ফলশ্রুতিতেই অপৌরাণিক ও পৌরাণিক দেবদেবীর মিলন সম্ভব হয়েছিল এবং মঙ্গলকাব্য এই নবসৃষ্ট দেবদেবীরই বন্দনাগান। ফলত, ত্রয়োদশ শতকেই তার সূচনা হওয়া সম্ভব। লক্ষণীয়, মঙ্গল- কাব্যের আখ্যানের কাঠামো সন্দের অতীত থেকেই গ্রামীণ সমাজে মৌখিক সাহিত্যে প্রচলিত ছিল। তারই নব রূপান্তর, সম্প্রসারণ ও লিখিতরূপে পাওয়া গেল মঙ্গল- কাব্যকাহিনীতে। মঙ্গলকাব্যের দেবদেবীদের প্রাথমিক রূপ অশিক্ষিত জনের ভয়-ভক্তি-সংস্কার- বিশ্বাসে সষ্ট। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, হিংস্র জন্তুর আক্রমণ ও রোগভীতি এই সৃষ্টির মলে কাজ করেছিল। বাংলায় আর্য আগমনের আগেই বাঙালীরা এই দেবদেবী রূপের কল্পনা করে। ফলত, এই দেবদেবীগুলি সভ্য সমাজের মার্জিত রুচির দেবতা নন; ক্রোধ ও প্রতিহিংসাপ্রবৃত্তির মানষী দুর্বলতা দিয়ে গড়া তাঁ...